জয়পুর: ফের অনারকিলিং! এবার ঘটনাস্থল রাজস্থানের দুঙ্গারপুর।
ভিন জাতের ছেলেকে বিয়ে করার ‘অপরাধ’এ বাড়ির মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারতেও হাত কাঁপল
না তাঁর পরিবারের।
পুলিশ জানায়, মৃতের নাম রমা কুনওয়ার (৩০)। রাজস্থানের দুঙ্গারপুর গ্রামের মেয়ে রমা। বছর
আষ্টেক আগে গ্রামেরই ছেলে প্রকাশ সেবককে ভালোবেসে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় রমা। তারপর
দু’জনে বিয়েও করে। কিন্তু পরিবারের ভয়ে
তাঁরা গ্রামে ফেরেননি। যদিও রমার পরিবার পুলিশ দিয়ে মেয়ের খোঁজ লাগিয়েছিল। কিন্তু
কোনও হদিশ পায়নি। অবশেষে মেয়ের হাল ছেড়ে দেয়। তারপর আট বছর পেরিয়ে গিয়েছে। রমার সঙ্গে তাঁর পরিবারের কোনও যোগ ছিল
না। হঠাৎ করে গত সপ্তাহে ‘ধূমকেতু’র মত গ্রামে উদয় হয় রমা এবং প্রকাশ। কিন্তু
দু’জনের কেউই কল্পনা করেনি, গ্রামে ফেরাটাই তাঁদের ‘কাল’ হবে।
আসলে প্রকাশের সঙ্গে আট বছরের বিবাহিত
জীবন কাটিয়ে ফেলেছে রমা। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩০ বছর। এখন দু’জনেই অনেকটা পরিণত। তাই
নিজের পুরানো গ্রামে, শ্বশুরবাড়িতে প্রকাশের সঙ্গে নতুন করে সংসার পাতার কথা
ভেবেছিল রমা। তাঁর ধারণা ছিল, এতগুলো বছর পর তাঁর বাড়ির লোকের ক্ষোভও প্রশমিত
হয়েছে। তাই আর কোনও সমস্যা হবে না। সেইমত গত সপ্তাহে রমা এবং প্রকাশ দুঙ্গারপুর
গ্রামে ফেরে। যদিও মেয়ে-জামাইকে দেখে বরণ করে ঘরে তোলা তো দূর অস্ত, দেখা মাত্রই
গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতে বলে রমার বাবা এবং দুই ভাই। যদিও বাবা-ভায়ের কথায় আমল দেননি
রমা। তাই শাস্তি থেকেও রেহাই পেলেন না তিনি।
গ্রামবাসীরা জানান, শুক্রবার সকালে প্রকাশ
বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর রমার ভাই, বাবা সহ ৭ জন তাঁর বাড়িতে ঢোকে। তারপর রমাকে
লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং মারতে-মারতে টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে অন্যত্র নিয়ে
যায়। এরপর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও রমার খোঁজ মেলেনি। তাঁর পরিজনেরাই তাঁকে লোকচক্ষুর
আড়ালে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। তবে ঘটনাটি লোকচক্ষুর আড়ালে হলেও কেউ গোপনে
এটি দেখে এবং পুলিশে খবর দেয়। তারপর সন্ধ্যাবেলা পুলিশ রমার দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে।
প্রকাশ এবং গ্রামবাসীদের বয়ানের ভিত্তিতে রমার বাবা, ভাই সহ ৭ জনকে গ্রেফতারও
করেছে। এই ঘটনায় আরও ৩৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলেও পুলিশ জানায়। তবে
এই মর্মান্তিক ঘটনায় কম্পিত গ্রামবাসীরাও।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন