বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৬

সোনিয়াকে ঢিল ফেরত দিলেন মমতা



কলকাতা: নাম না-করে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কটাক্ষের জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার বীরভূমে ভোটপ্রচারে গিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেস অনেক দিন ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু সংখ্যালঘুদের সংরক্ষণের কথা ভাবেনি৷ আমরাই ভেবেছি৷
বুধবার বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে মমতাকে কড়া আক্রমণ করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী৷ বলেছিলেন, ‘‘মা-বোনদের অবস্থা শোচনীয়! মাটি শুকিয়ে গিয়েছে। মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকারে এলে গরিবদের দেখবেন বলেছিলেন মমতা। তাই আমরাও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস ভেঙেছেন মমতা।’’ মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর জমানায় বাংলায় মহিলাদের নিরাপত্তা যে বেহাল, সেই অভিযোগও এনেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। আর সেইসঙ্গে অবধারিতভাবেই টেনে এনেছেন দুর্নীতির প্রসঙ্গ৷ বলেছেন, ‘‘বাংলায় দুর্নীতির কোনও সীমা নেই। গত পাঁচ বছরে বাংলাকে কী না সহ্য করতে হয়েছে!’’ সোনিয়ার এই বক্তব্যের পরই অবশ্য তার জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা, কিন্তু সোনিয়া-মমতার পারস্পরিক যা সম্পর্ক তাতে প্রত্যক্ষভাবে তাঁদের একে-অপরের প্রতি কটাক্ষ-পালটা কটাক্ষ ভোটের ময়দানে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
এর আগে রাহুল গান্ধীকে বসন্তের কোকিল বলে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু এদিন সোনিয়া গান্ধীকে প্রায় সে রকমই ইঙ্গিত করে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর গায়ে ঢিল লাগলে তিনিও পাটকেল ছুঁড়তে ছাড়েন না৷ মমতা  বলেন, অনেকেই আছেন পাঁচ বছর পর পর আসেন আর ফুরফুরে হাওয়া খেয়ে চলে যান৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সোনিয়া ও মোদী, দুজনের উদ্দেশ্যেই এই ইঙ্গিত করে এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন মমতা৷ তবে সোনিয়া গান্ধীর কথায় মমতা যে বেশ রুষ্ট তা এদিন তিনি তাঁর কথার ঝাঁজে বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ বক্তব্যের গোড়াতে সোনিয়ার নাম উচ্চারণ না করলেও পরে অবশ্য একবার করেছেন৷ খানিকটা ঝিকে মেরে বউকে শিক্ষা দেওয়ার ঢঙে এদিন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস যা বলছে তাই করছে, পুলিশ বদলে দিচ্ছে৷ সোনিয়া গান্ধী, আহমেদ প্যাটেল বলে গিয়েছেন আমাকে চিঠি পাঠাতে, তাই আমাকে চিঠি পাঠাচ্ছে৷ তাঁর সাফ কথা, তিনি তাঁর বক্তব্য থেকে কোনভাবেই নড়বেন না৷ সেইসঙ্গে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের অপসারণকেও এদিন অবৈধ বলে মন্তব্য করেন মমতা৷
এদিকে, এদিন বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা৷ সেই প্রসঙ্গে মমতার প্রশ্ন, অনুব্রতকে গ্রেফতার কেন, কেন অধীর, সেলিম, বিমানকে নয়?    

কোন মন্তব্য নেই: