পেন্টাগন: ক্রমশ বাড়ছে রাশিয়া-আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা। বাল্টিক সাগরে মোতায়েন মার্কিন চালিত ক্ষেপনাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজের গায়ে কার্যত নিঃশ্বাস ফেলে চক্কর দিল দুটি রুশ যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবারের এই ঘটনাকে আমেরিকা সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে।
এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, শুধু মঙ্গলবার নয়, এর আগেও একাধিকবার রাশিয়ান ফাইটার জেট চক্কর কেটেছে মার্কিন রণতরীর আকাশেপাশে। কিন্তু মঙ্গলবার দুটি সুখোই এসইউ-২৪ বিমান মার্কিন নৌজাহাজের একেবারে গা ঘেঁসে প্রায় এগারো বার চক্কর কাটে। দুটি যুদ্ধবিমান এত কাছ দিয়ে যাচ্ছিল যে, তা সমুদ্রের বুকে তরঙ্গ তুলে দেয়।ইউএসএস ডোনাল্ড কুক নামে ওই ক্ষেপনাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজের কাছ ঘেঁষে সাতবার ছবি তুলতে তুলতে উড়ে যায় রাশিয়ার একটি কেএ-২৭ হেলিক্স হেলিকপ্টার।
বাল্টিক সাগরের এই এলাকা থেকে রাশিয়ার এক্তিয়ারভুক্ত অঞ্চল প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে কিলিনগ্রাদ। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে কিলিনগ্রাদ। আমেরিকার দাবি, তাদের জাহাজ ওই সময় আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল।উল্লেখ্য, বাল্টিক দেশগুলি, বিশেষ করে পোল্যান্ড রাশিয়াকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবেই মনে করে। তিনটি বাল্টিক দেশ ২০০৪-এ ন্যাটো-তে যোগ দিয়েছে। ওই দেশগুলি তাদের অঞ্চলে জোট-বাহিনীর স্থায়ী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। এরই ভিত্তিতে ন্যাটো ঠান্ডাযুদ্ধোত্তর পর্বে পূর্ব ইউরোপে তাদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও মস্কো বাল্টিক দেশগুলিকে আক্রমণের কোনও উদ্দেশ্যই তাদের নেই বলে জানিয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন