মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০১৬

প্রত্যাশার চাপ নিতে তৈরি টিম ‘মাহি’



কলকাতা: কোয়ালিফাইয়িং ম্যাচ দিয়ে মঙ্গলবারই শুরু হয়ে গিয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ৷টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট হয়েই শুরু করবে টিম ইন্ডিয়া৷
সদ্য এশিয়া কাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও স্বয়ং মেনে নিচ্ছেন সেকথা৷ তবে তিনি জানিয়ে দিলেন যে তাঁর দল প্রত্যাশার চাপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত৷মঙ্গলবার শহরে সাংবাদিক বৈঠকে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ জানান,‘অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে জিতে আমরা চাঙ্গা৷দল বেশ ভালো জায়গায় রয়েছে৷ টিম কম্বিনেশনও তৈরি হয়ে গিয়েছে৷বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই আমাদের পারফরম্যান্স খুব ভালো হচ্ছে৷’ বিশ্বকাপ জেতার প্রসঙ্গে মাহি বলেন,‘শেষ কয়েকটি আইসিসি টুর্নামেন্টে হোম টিমই জিতেছে৷২০১১-এ ভারত ও গতবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিতেছে৷ দু’বছর আগেও বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে উপমহাদেশেরই দল৷ তাই আমরাও ঘরের মাঠে ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী৷ তবে এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবতে চাইছি না৷’
কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ধোনির ভারত৷ তাতে খেলতে পারেন দলে একমাত্র বাংলার প্রতিনিধি মহম্মদ শামিও৷ কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপে শামি কী দলে জায়গা পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে ধোনি জানান,‘শামি কালই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে৷ এখনও ওকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি৷ও সবে ট্রেনিং শুরু করেছে৷দেখা যাক কী হয়৷’ নিজের ব্যাটিং অর্ডার ও ফিনিশার প্রসঙ্গে ধোনি বলছেন,‘আমি সমালোচকদের জবাব দেওয়ার জন্য এখানে বসে নেই৷ শুধু দলের হয়ে ভালো পারফর্ম করতে চাই৷ টিম ভালো করলেই আমার পক্ষে সেটা যথেষ্ট৷’   

শিক্ষিকার নগ্ন ছবি চুরি করে ইন্টারনেটে ফাঁস!




ওয়াশিংটন:  শিক্ষিকার ফোন থেকে নগ্ন ছবি চুরি করে তা ইন্টারনেটে ফাঁস! অভিযুক্ত তাঁরই এক ছাত্র। যদিও ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিই দেওয়া হয়নি। উল্টে ওই শিক্ষিকাকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনার ইউনিয়ন কাউন্টি হাই স্কুলে। ১৬ বছর বয়স্ক শিক্ষার্থীর ওই কাণ্ডে শিক্ষিকাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলটিতে মেকাট্রনিক্স (কম্পিউটার প্রোগ্রামিং) বিষয়ের শিক্ষিকা লেই অ্যান আর্থার তার ফোনটিকে ভুলবশত ক্লাসরুমের ডেস্কে ফেলে রেখেই চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে আসেন। কিন্তু যা ঘটার তা ততক্ষণে ঘটে গিয়েছে! তার অনুপস্থিতিতে তার ফোন থেকে তারই একটি অর্ধনগ্ন ছবি চুরি করে তা ইন্টারনেটে ফাঁস করে দিয়েছে তাঁরই এক ছাত্র।
স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, আর্থার প্রায়ই শিক্ষার্থীদের তার ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিতেন। তারপরও তিনি কী করে এমন একটি ছবি ফোনে রাখলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ওই শিক্ষিকাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে, অভিযুক্ত ছাত্রকে শিক্ষার্থীকে সাইবার ক্রাইম ও ‘ভয়েরিজম’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।
‘ভয়েরিজম’ বলতে কাউকে নগ্ন বা কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে তৃতীয় কোনও ব্যাক্তির যৌন আকাঙ্ক্ষা মেটানোকে বোঝায়। তবে, অভিযোগে এই শিক্ষার্থীকে ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বলা হয়েছে।

আবর্জ্জনা সংগ্রহকারীর কাজে নিযুক্ত খড়্গপুর আইআইটি-র পড়ুয়া


খড়্গপুর: আইআইটি-র ছাত্র আবর্জ্জনা সংগ্রহকারী। শুনতে অবাক হলেও এটাই সত্যি। তাও আবার যে-সে আইআইটি নয়, খোদ খড়্গপুর আইআইটির পড়ুয়া আবর্জ্জনা সংগ্রহকারীর কাজে নিযুক্ত। একজন নয়, কমপক্ষে তিনজন।
জানা গিয়েছে, খড়্গপুর আইআইটির পিএইচডি-র ছাত্র অভিমন্যু কর এবং তাঁর দুই বন্ধু আবর্জ্জনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। সরকারি বা বেসরকারি কোনও সংস্থার অধীনে নয়, নিজেদের অধীনেই এই কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। এই তিন আইআইটি পড়ুয়া কেবল ডাস্টবিন থেকেই আবর্জ্জনা সংগ্রহ করে না, লোকের বাড়ি-বাড়ি গিয়েও আবর্জ্জনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু কেন? কেবল পেটের দায়েই কি এঁরা আবর্জ্জনা সংগ্রহের কাজ করছেন? এই প্রশ্নের এককথায় জবাব, “না’’। এর পিছনে ‘স্বচ্ছ ভারত’ বা দূষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার মানসিকতাও রয়েছে।
আসলে পুনর্নবীকরণ সম্ভব এরকম বর্জ্যই সংগ্রহ করেন এই ‘শিক্ষিত আবর্জ্জনা সংগ্রহকারীরা’। দূষণ এড়াতে এবং পুনর্নবীকরণ দ্রব্যের ব্যবহার বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানান এই বিশেষ প্রকল্পের হোতা অভিমন্যু কর। তাঁর কথায়, “এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত বর্জ্য মাটিতে ফেলা হয়। এর থেকে দূষণ সৃষ্টি হয় এবং পুনর্নবীকরণ জৈবগুলি আলাদা করা সমস্যা হয়। এখন এর বদল ঘটতে শুরু করেছে।’’ অভিমন্যু কর এবং তাঁর দুই বন্ধু এই যে বিশেষ প্রকল্পটি চালু করেছেন, তার নাম ‘কাব্বাডি অন কল’। অর্থাৎ আবর্জনা ফেলার জন্য একটা ফোন করলেই সাইকেল এবং ব্যাগ নিয়ে হাজির হয়ে যাবেন অভিমন্যু বা তাঁর ‘কাব্বাডি কল’এর সদস্যরা।
২০১৪ সালে মাত্র তিনজন ‘কাব্বাডি কল’ চালু করলেও বর্তমানে এই সংস্থার কাজ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে কর্মী সংখ্যা। তাই বাড়ির বর্জ্য ফেলার জন্য কাব্বাডি কলের কাছে আগে থেকে অ্যাপোয়েন্টমেন্টও নিতে হয়। এই সংস্থারই সদস্য মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের এক পড়ুয়া জানান, স্থানীয় আবাসনগুলি থেকে পুনর্নবীকরণ বর্জ্য নিয়ে আসার জন্য তাঁরাই কর্মী জোগাড় করেন। ওই কর্মীরা ওজন মাপার একটি ডিজিটাল যন্ত্র এবং মূল্য তালিকা নিয়ে লোকের বাড়ি পৌঁছে যান। তারপর বিভিন্ন ধরনের পুনর্নবীকরণ বর্জ্য নিয়ে আসেন। পুনর্নবীকরণ দ্রব্যের মধ্যে শুকনো কাগজ, প্ল্যাস্টিক, প্ল্যাস্টিকের বোতল, ইলেকট্রনিক্সের সামগ্রী সহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী থাকে বলেও তিনি জানান। অভিমন্যু করের এই উদ্যোগকে পুরো খড়্গপুর আইআইটি এবং এলাকাবাসী স্বাগত জানিয়েছে। আইআইটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সুধা গোয়েল বলেন, “এখন আমিও ওদের (কাব্বাডি কলের কর্মী) ডাকি এবং ওরা পুনর্নবীকরণযোগ্য সমস্ত সামগ্রী নিয়ে যায়। আমি ভালো দামও দিই।’’ সুধা গোয়েলের মত এলাকাবাসীর অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের এই কাজে খুশি হয়ে ভালো দাম দেন। তাই বলা যায়, অভিমন্যু কর ও তাঁর দুই বন্ধুর এই ব্যবসায় তাঁদের যেমন পেটের চিন্তা করতে হচ্ছে না, তেমনই উপকৃত হচ্ছে পরিবেশ।